সমাসের প্রকারভেদঃ সমাস ছয় প্রকার
১। দ্বন্দ্ব সমাসঃ দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই সমান প্রাধান্য পায় অর্থাৎ দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদ উভয় পদেরই সমান গুরুত্ব থাকে। মা-বাপ , আয়- ব্যয়।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
v
মিলনার্থক শব্দযোগেঃ মা-বাপ, মাসি-পিসি, চা- বিস্কুট ইত্যাদি ।
ü
*বিরোধার্থক শব্দযোগেঃ দা-কুমড়া , অহি- নকুল, স্বর্গ- নরক ইত্যাদি ।
ü
*বিপরীতার্থক শব্দযোগেঃ আয়- ব্যয়, জমা- খরচ, ছোট- বড়ো ইত্যাদি ।
Ø
সমার্থক শব্দযোগেঃ হাট- বাজার, ঘর – দুয়ার , কল-কারখানা ইত্যাদি ।
Ø
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগেঃ কাপড়- চোপড় , পোকা – মাকড় ,দয়া-মায়া ইত্যাদি ।
- অঙ্গবাচক শব্দযোগেঃ হাত-পা, বুক-পিঠ, নাক- মুখ ইত্যাদি ।
- সংখ্যাবাচক শব্দযোগেঃ সাত – পাঁচ , নয় –ছয় ,সাত-সতেরে ইত্যাদি ।
q
দুটি সর্বনাম যোগেঃ যা-তা, যে-সে, যথা-তথা ইত্যাদি ।
q
দুটি ক্রিয়া যোগেঃ দটখা- শোনা , যাওয়া – আসা ইত্যাদি
q
দুটি ক্রিয়া বিশেষণ যোগেঃ ধীরে – সুস্থে, আগে- পাছে ইত্যাদি ।
q
দুটি বিশেষণ যোগেঃ ভালো-মন্দ, কম বেশি ইত্যাদি ।
২।
কর্মধারয় সমাসঃ
কর্মধারয় সমাসে পরপদে প্রাধান্য পায় এবংএই সমাসে কোনোকিছুর তুলনা বোঝায় অর্থাৎ যে সমাসের পরপদ বা উত্তরপদের প্রাধান্য থাকে এবং তা কোনোকিছুর তুলনা বোঝায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন – কাজলের মতো কালো =
কাজলকালো, সিংহের মতো পুরুষ = সিংহপুরুষ ইত্যাদি।
কর্মধারয় সমাস প্রধানত ৪ প্রকারঃ
I.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
যে কর্মধারয় সমাসে
ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ
লোপ পাবে
তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে ।যেমনঃ
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
,সাহিত্য বিষায়ক
সভা= সাহিত্যসভা
II.
উপমান কর্মধারয় সমাসঃ
সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। সমস্তপদ সত্য প্রকাশ পাবে।
যেমনঃ তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র
III.
উপমিত কর্মধারয় সমাসঃ
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। সমস্তপদ মিথ্যা প্রকাশ পাবে।
যেমনঃ পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
IV.
রুপক কর্মধারয় সমাসঃ
উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। সমস্যমান পদে ‘রুপ’ অথবা ‘ই’ থাকে, সমস্তপদে একটি দেখা যাবে অন্যটি দেখা যাবে না।
যেমনঃ বিষাধ রুপ
সিন্ধু = বিষাধসিন্ধু
৩। দ্বিগু সমাসঃ সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। পরপদের অর্থ প্রধান । যেমনঃ তিন কালের সমাহার = এিকাল , শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী|
আরো জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন..........
৪। অব্যয়ীভাব সমাসঃ অনুবাদ অব্যয় পদ পূর্বে থেকে যে সমাস হয় এবং যাতে পূর্ব পদের অর্থেরই প্রাধান্য থাকে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। এই সমাসকে বর্তমানে উপসর্গ তৎপুরুষ সমাস বলে । অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পাবে।
v
জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত ( পর্যন্ত <আ>)
v
আমিষের অভাব = নিরামিষ ( অভাব
<নির>)
v
শহরের সাদৃশ = উপশহর ( সাদৃশ <উপ>)
v
বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল ( অতিক্রান্ত
<উৎ>)
v
বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ ( বিরুদ্ধ
<প্রতি> )
পাঠিয়েছেন
মোসাঃ
তানিয়া সুলতানা বন্যা
যশোর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Post a Comment